নরকের রাজ পুত্র

Logo Design by FlamingText.com
Logo Design by FlamingText.com

Cheak you Time

সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৩

অন্য

অন্য
------
জলের হাত থাকে চিবুক থাকে
জলও তাঁবু ফেলে সমতলে বসল

ধোঁয়া দেখে আমরা অবাক হয়ে গেলাম

খাতের জল অন্য খাতেই বযে যায়
গাছের শিকড় থেকে অন্য গাছই রস টেনে নেয়

অনেক দূরের গম্বুজে
মিশে থাকল পাখির অবয়ব

ঢেউ হঠাত্‍ লাফিয়ে উঠে রং বদলে নিল !!

তোমার জন্য

তোমার জন্য
--------
নদী বললে বলব তাকে
জল নিয়ে যা
যেমন খুশী যেথায় খুশী
যা বয়ে যা
তোর তো আছে সাগর, পাহাড়
অবিশ্রান্ত ছন্দ চলার
আমায় নিয়ে মিছেই
তোর ভাবনা বিলাস

পাখী বললে বলব তাকে
শ্রান্ত হলে ক্লান্ত ডানা
দন্ড দু'এক বসতে পারিস
ইচ্ছে হলেই গাইতে পারিস
তুই তো আরেক ছন্নছাড়া
এসব কথা তোর সাজে না

আকাশ বাতাস যেই বলুক
আমার জন্য আমার নিয়ম
এলোমেলো চেয়ার টেবিল
বইপত্র লেখার খাতা
আমার এমন ছন্দবিহীন
অবিন্যস্ত জীবন যাপন
যেমন ছিল থাকবে তেমন

শুধু
তুমি বললে
অমনি আমি সুবোধ বালক
ফিরতে ঘরে রাত হবেনা
ভরবে সাদা লেখার খাতা
গুটি গুটি লিখবো বসে
তোমার জন্য এই কবিতা

হিরণ্ময় আত্মা ১৫ -The Diamond Soul

হিরণ্ময় আত্মা ১৫
 The Diamond Soul

সুদুরে যাও , গভীরে বও , দূর থেকে আরও নিকটবর্তী
কখনো দীর্ঘ তরঙ্গমালা , কখনো ক্ষুদ্র জলোচ্ছ্বাস
নিপুণ আলোর সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতরো
বিন্যাস ও বিচ্ছুরণে চৈতন্যের সযত্ন প্রয়াস ।

জলের গহীনে কখনো অবিরাম অগ্নুৎপাত ,বজ্রনিনাদ
দহনের উষ্ণতা নিয়ে অবিশ্বাস্য ছাইভস্ম থেকে
জেগে ওঠা অচিন ,আতিকায় পাখি যেন তুমি

চির আদিমতার সুবিশাল আঁধার ভুবন থেকে
জগতের সকল অম্লান কথা ও কাহিনী পুনরুদ্ধার করে
হিরণ্ময় আলোকে আলোকিত কর ভুবন আমার ।

ডানার শব্দে সীমাহীন অনন্ত পথে পথে
বুনে যাও জীবনের জয়গান অবিরাম
তোমার কলতানে এঁকে যাও পালক রেখায়
আমার আকাশে কি উল্লাসে আশার ছবি ।

ছায়াচ্ছন্ন রংধনু গোধূলির মায়ামূর্তি তুমি বহুমাত্রিক বিস্তারে
সাথে করে টেনে নাও হৃদয়ের উচ্ছ্বাস যত
কোন পথে সাবলিল অনমনীয় অপার উড়াল উজ্জ্বলতম স্বর্গদ্বারে ।
(Collection)

কামদুনি -দেবেশ ঠাকুর

কামদুনি
দেবেশ ঠাকুর

মেয়েটি কলেজের ছাত্রী
মেয়েটি পথ হাঁটে রোজদিন
মেয়েটির মা বাপ আনপড়
অপুষ্টি উপবাসে সঙ্গিন।
মেয়েটি লেখাপড়া শিখবেই
অদূরে নগরের মায়াডাক
যে নগর জেগে আছে রেনেসাঁস
এ গাঁয়ে বীণাপাণি ঘুম যাক।

মেয়েটি কলেজের ছাত্রী
দুচোখে স্বপনের ইমারত
আরো সে পড়বে, পড়বেই
পড়াবে, পড়বে সে যুগপৎ।
যে আলোক চিনে দেয় অক্ষর
সে আলোয় মেয়েটিকে ধর্ষণ
ছিলোনা সংজ্ঞায় , আঘাতে
সেদিন মেঘ - ভাঙা বর্ষণ।

মেয়েকে চিরে জরা রাক্ষস
পশুও এর চেয়ে দয়াময়
এ কোন রাত্রির কথা ভাস
সময় বোঝে কি এ সংশয়!
এবার দাম আর দস্তুর
কিশোরী নিলামের পাটাতে
এবার লাশ নিয়ে মেধা-বাদ
কে কাকে পথে নেবে হাঁটাতে!

ও কবি ও গায়ক আঁকিয়ে
মোমবাতি জ্বালো সুতো পাকিয়ে।

চলাচল

চলাচল


তুমি যখন চুড়ায় পৌঁছানোর আশায়

ঊর্ধ্বমুখী সিঁড়ি খুঁজছো

আমি তখন নিম্নগামী অনেকটাই ,

তুমি যখন প্রবল উচ্ছ্বাসে

আগমনের উল্লাসে মুখর

আমি তখন প্রত্যাবর্তনের পথে ।

শুরুটা একই ছিল , সময়টাও এক

অথচ মাঝ পথে এসে তুমি

থমকে দাঁড়ালে দ্বিধাদ্বন্দ্বের দোলাচলে ।

পিছুটান বড় বেশী , বড় বেশী সংশয় মনে

বৃত্ত পূরণের আগেই কক্ষচ্যুত তুমি

পূর্ণবৃত্তের কেন্দ্রে নিশানা উড়িয়ে আমি ফিরে চলি ।

রাত আসছে ঐ

রাত আসছে ঐ

দিনের সূর্য অস্ত গেল রাত আসছে ঐ
মাগো আমার মশা তাড়াবার কয়েল গুলো কই?
বেড়ার দারে,পুকুর পারে মশা দাকে ঝুপে জারে.
মশার জ্বালায় ঘুম আসে না একলা জেগে রই
মাগো আমার মশা তাড়াবার কয়েল গুলো কই?
সেদিন থেকে কয়েল কিনে কেনইবা না আন
আমি বলি তুমি কেন চুপটি করে থাকো?
পড়ার টেবিলে আসি যখন মশার জ্বালায় জ্বলি তখন
বাজার থেকে কেন মা আর কয়েল আন নাকো?
আমি বলি তুমি কেন চুপটি করে থাকো
কয়েল কিনে না আনলে মা যে,মশার জ্বালায় মরব শেষে
তুমি তখন একলা গড়ে কেমন করে 'র' বে ?
আমিও নাই মশাও নাই কেমন মজা হবে .
মশায় মশায় ভরে গেছে শিউলি গাছের তল
তাড়িয়ে দিস মা পুকুর থেকে আনবি যখন জল
পুকুর পারের গাছের ফাঁকে মশা গুলো লুকিয়ে থাকে |
গাছটা যেন কাটিস মাগো পেরে গেছের ফল
কাল যে কয়েল আনবি কিনা এবার আমায় বল
দিনের সূর্য অস্ত গেল রাত আসছে ঐ
মাগো আমার মশা তাড়াবার কয়েল গুলো কই
মশার জ্বালায় ঘুম আসেনা -তাইতো জেগে রই
রাত হল যে মাগো,আমার কয়েল গুলো কই?

(ছোটদের জন্য লিখলাম ভাল লাগলে লাইক দিবেন )

বাঁশিওয়ালা -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাঁশিওয়ালা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

‘ওগো বাঁশিওয়ালা,
বাজাও তোমার বাঁশি,
শুনি আমার নূতন নাম;---
এই ব’লে তোমাকে প্রথম চিঠি লিখেছি,
মনে আছে তো?।

আমি তোমার বাংলাদেশের মেয়ে।
সৃষ্টিকর্তা পুরো সময় দেন নি
আমাকে মানুষ ক;রে গড়তে,
রেখেছেন আধাআধি করে।
অন্তরে বাহিরে মিল হয় নি--
সেকালে আর আজকের কালে,
মিল হয়নি ব্যথায় আর বুদ্ধিতে,
মিল হয়নি শক্তিতে আর ইচ্ছায়।
আমাকে তুলে দেন নি এ যুগের পারানি নৌকায়--
চলা আটক করে ফেলে রেখেছেন
কালস্রোতের ও পারে বালুডাঙায়।
সেখান থেকে দেখি
প্রখর আলোয় ঝাপসা দূরের জগৎ;
বিনা কারনে কাংগাল মন অধীর হয়ে ওঠে;
দুই হাত বাড়িয়ে দেই,
নাগাল পাই নে কিছুই কোনো দিকে।।

বেলা তো কাটে না,
বসে থাকি জোয়ার-জলের দিকে চেয়ে---
ভেসে যায় মুক্তিপারের খেয়া,
ভেসে যায় ধনপতির ডিঙা,
ভেসে যায় চলতি বেলার আলোছায়া।
এমন সময় বাজে তোমার বাঁশি
ভরা জীবনের সুরে,
মরা দিনের নাড়ীর মধ্য
দব্‌দবিয়ে ফিরে আসে প্রাণের বেগ।।

কী বাজাও তুমি,
জানি নে সে সুর কার মনে জাগায় কী ব্যথা।
বুঝি বাজাও পঞ্চম রাগে
দক্ষিন হাওয়ার নব যৌবনের ভাটিয়ারি।
শুনতে শুনতে নিজেকে মনে হয়
যে ছিল পাহাড়তলির ঝির্‌ঝিরে নদি
তার বুকে হঠাৎ উঠেছে ঘনিয়ে
শ্রাবনের বাদল-রাত্রি।
সকালে উঠে দেখা যায় পাড়ি গেছে ভেসে,
একগুঁয়ে পাথরগুলিকে ঠেলা দিচ্ছে
অসহ্য স্রোতের ঘূর্ণিমাতন।।

আমার রক্তে নিয়ে আসে তোমার সুর
ঝড়ের ডাক, বন্যার ডাক,
আগুনের ডাক,
পাঁজরের-উপরে-আছাড়-খাওয়া
মরন সাগরের ডাক,
ঘরের-শিকল-নাড়া উদাসী হাওয়ার ডাক।
যেন হাঁক দিয়ে আসে
অপূর্নের সংকীর্ন খাতে
পূর্ন স্রোতের ডাকাতি--
ছিনিয়ে নেবে ভাসিয়ে দেবে বুঝি।
অঙে অঙে পাক দিয়ে উঠে
কালবৈশাখির-ঘূর্ণি-মার -খাওয়া অরণ্যের বকুনি।।

ডানা দেননি বিধাতা--
তোমার গান দিয়েছে আমার স্বপ্নে
ঝোড়ো আকাশে উড়োপ্রানের পাগলামি।।

ঘরের কাজ করি শান্ত হয়ে;
সবাই বলে ‘ভালো’
তারা দেখে আমার ইচ্ছের নেই জোর,
সাড়া নেই লোভের,
ঝাপট লাগে মাথার উপর
ধুলোয় লুটাই মাথা।
দুরন্ত ঠেলায় নিষেধের পাহারা কাত ক’রে ফেলি
নেই এমন বুকের পাটা;
কঠিন করে জানিনে ভালবাসতে,
কাঁদতে শুধু জানি,
জানি এলিয়ে পড়তে পায়ে।।

বাঁশিওয়ালা,
বেজে ওঠে তোমার বাঁশি,
ডাক পড়ে অমর্তলোকে;
সেখানে আপন গরিমায়
উপরে উঠেছে আমার মাথা।
সেখানে কুয়াশার পর্দা-ছেঁড়া
তরুন সূর্য আমার জীবন।
সেখানে আগুনের ডানা মেলে দেয়
আমার বারন-না-মানা আগ্রহ,
উড়ে চলে অজানা শূন্যপথে
প্রথম-ক্ষুধায়-অস্থির গরুরের মতো।
জেগে উঠে বিদ্রোহিণী,
তীক্ষন চোখের আড়ে জানায় ঘৃনা
চারদিকের ভীরুর ভিড়কে--
কৃশ কুটিলের কাপুরুষতাকে।।

বাঁশিওয়ালা,
হয়তো আমাকে দেখতে চেয়েছ তুমি।
জানি নে, ঠিক জায়গাটি কোথায়,
ঠিক সময় কখন,
চিনবে কেমন ক’রে।
দোসরহারা আষাঢ়ের ঝিল্লিঝনক রাত্রে
সেই নারীতো ছায়া রূপে
গেছে তোমার অভিসারে
চোখ- এড়ানো পথে।
সেই অজানাকে কত বসন্তে
পরিয়েছ ছন্দের মালা--
শুকোবে না তার ফুল।

তোমার ডাক শুনে একদিন
ঘরপোষা নীর্জীব মেয়ে
অন্ধকার কোন থেকে
বেরিয়ে-এল ঘোমটা খসা নারী।
যেন সে নতুন ছন্দ বাল্মীকির,
চমক লাগাল তোমাকেই।
সে নামবে না গানের আসর থেকে;
সে লিখবে তোমাকে চিঠি
রাগিনীর আবছায়ায় বসে--
তুমি জানবে না তার ঠিকানা।
ওগো বাঁশিওয়ালা।
সে থাক তোমার বাঁশির সুরের দূরত্বে।।

“”””অধ্যায়ের অংশে তুমি””””

“”””অধ্যায়ের অংশে তুমি””””

তুমি চাও আহ্লাদিতে ভালোবাসা
টানা চাওয়া চোখের পাতায়,
আমার হৃদয়ে দিল মাতাল হাওয়া ।
ঠোঁটের মাঝে আছে ভালোবাসার..
কামনার এ কিসের নেশা !

মেদতায় তোমাকে লাগিয়াছে ভালো,
সাথে আছে ছাটুনি চুল উজ্জ্বলে কালো ।
বর্নের উজ্জলে মায়াবী চেহারা,
মনে হয় যেন আমারই প্রিয়তমা ।

বুকের মাঝে স্পর্শের শীতল
সেই আছে হৃদয়ে করিতে আদর ।
দৈহিকে তোমার বিচ্ছিন্নতা
সাজনে আসিতো শুভায় পূষ্পতার ।

তোমার সম্মতিতে আমার চাওয়া,
পাবো বলে ভাবিয়া করিয়াছি তাহা ।
দেখি নাই তোমার সুসম্পর্না,
তার মাঝে যা পেয়েছি তাই দেখেছি
ভালো লাগার মাঝে পাশে চেয়েছি।

আমার জন্য তোমার থাকে মন মাতাল
পাইবে কাছে বলে সেই থাকে উত্তাল ।
ফুসরত হবে তোমার মাঝে সময়ের সাথে
আগামীর অধ্যায়ের অংশে তুমি আমার ।

কিছু কিছু কান্না,

কিছু কিছু কান্না,
শুধুই দুচোখে জলের বন্যা।
কিছু কান্না অর্থহীন,
কারো কাছে বা মূল্যহীন ।
কিছু কান্না ঝরে গোপনে ,
কখনো বা ভালবাসার অগোচরে। কিছু
কান্না মানে অপূর্ণতা,
বেদনার নীল রঙে আঁকা,
আকাশ পানে চেয়ে কষ্ট উড়িয়ে দেয়া ।
হয়তো বা সত্য ছিল না তোমার
ভালবাসা,
তবুও এ মন আজ মানতে চায় না বাধা।
মেনে নিতে চায় মন, অভিনয় করে হলেও
ভালবেসেছিলে মোরে কিছুক্ষণ. . . .

#### " আমরণ " ####

#### " আমরণ " ####


*********************************
আমার কবিতায় তুমি থাকবেই
সে আকাশ ,বাতাস ,মাটি
অসময় বা কুসময়
যাই হোক না কেন
তুমি থাকবেই ।
আমার স্বপ্নের ফুটন্ত ইচ্ছাগুলো
যখন কুঁকড়ে যায় সকালের ঘামে
তখন ইচ্ছা করে তোমায় ছিঁড়ে ফেলি
ফেলে দি ডাস্টবিনের অপ্রচলিত শব্দের মতো ।
আবার যখন কোনো প্রেমের কবিতায়
কবিতার প্রেমে আমি নেশাতুর
আমার হৃদয় ছোটে বায়ুর বেগে
তখন মনে হয়
তোমায় জড়িয়ে ধরি ভালোবেসে
আমার স্বপ্নের মতো ।
যখন একলা পথে
পায়ে আমার কাঁটা ফোটে
তখন মনে হয়
তুমি রক্ত হয়ে ঝরো ।
আবার যখন বিকেলে খেলার মাঠে
খোলা হাওয়া স্পর্শ করে
তখন মনে হয়
তুমি হৃদয় স্পর্শ করো।
আসলে জানো
তুমি থাকো আমার সাথে ।
আমি কায়া আর তুমি আমার ছায়া
প্রতিমুহূর্ত ,দিনে ,রাতে ।
আমি জানি তুমি থাকবে
আমরণ আমার সাথে ।
*********************************